বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের তালিকা
এনামুল হক গাজী, বীর প্রতীক
গ্রাম বাসাবাড়ি, ইউনিয়ন আটজুরি, মোল্লারহাট, বাগেরহাট।
বাবা আবদুল হাকিম গাজী, মা ফুলজান বিবি। অবিবাহিত।
খেতাবের সনদ নম্বর ১৪৩। গেজেটে নাম এনামুল হক।
শহীদ ১৭ নভেম্বর ১৯৭১।
ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে এনামুল হক গাজীসহ মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত অগ্রসর হতে থাকে বাংলাদেশের অভ্যন্তর ভাগের দিকে। তাঁরা খবর পেয়েছেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি দল এসেছে। সেনাবাহিনীর ওই দলটিকে তাঁরা আক্রমণ করবেন। একটু পরই তাঁরা মুখোমুখি হলেন পাকিস্তানি সেনাদের।
কাছাকাছি গিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা দ্রুত কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে আক্রমণ শুরু করেন। পাকিস্তানি সেনারাও ছিল সতর্ক। তারা পাল্টা গুলিবর্ষণ করে।
এনামুল হক ও তাঁর সহযোদ্ধারা বিপুল বিক্রমে পাকিস্তানি সেনাদের পাল্টা আক্রমণ মোকাবিলা করেন। একপর্যায়ে তিনি ও তাঁর কয়েকজন সহযোদ্ধা ঝোড়োগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন পাকিস্তানি সেনাদলের একাংশের ওপর।
সাহসী এনামুল হক এ সময় আরও এগিয়ে যান। তখন হঠাত্ গুলিবিদ্ধ হন তিনি। আহত হয়েও দমে যাননি। যুদ্ধ অব্যাহত রাখেন। তাঁর অদম্য মনোবলে সহযোদ্ধারা উত্সাহিত ও উজ্জীবিত হন। কিন্তু মারাত্মক আহত এনামুল হক একটু পরে ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে।
এ ঘটনা ১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বরের। কাশীপুরে। ঘটেছিল কাশীপুর যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অদূরে। কপোতাক্ষ নদ কাশীপুরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত। সেখানে নদের ওপর একটি সেতু আছে। চৌগাছা থানার পশ্চিমে সীমান্ত এলাকায় যেতে হলে এই সেতু দিয়েই যেতে হয়।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সামরিক কৌশলগত কারণে মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, উভয়ের কাছেই কাশীপুর ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। কাশীপুরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কোনো ঘাঁটি ছিল না। অদূরে ঝিকরগাছা থানায় (বর্তমানে উপজেলা) ছিল তাদের ঘাঁটি। সেখানে নিয়োজিত ছিল ৫৫ ফিল্ড রেজিমেন্ট এবং ২২ এফএফ রেজিমেন্ট।
কাশীপুর অনেকটা মুক্ত এলাকার মতো ছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষুদ্র একটি দল কাশীপুরে গোপনে অবস্থান করত। পাকিস্তানি সেনারা ঝিকরগাছা থেকে আসত সেখানে। এলাকার ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য টহল দিয়ে চলে যেত। মুক্তিযোদ্ধাদের বড় দল সুযোগ বুঝে প্রায়ই সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে আক্রমণ করত। ১৯৭১ সালে কাশীপুরে অসংখ্যবার যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সেদিন মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ করেন। এ আক্রমণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ওই দলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। একপর্যায়ে তারা হতাহত সেনাদের নিয়ে পালিয়ে যায়। যুদ্ধ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ এনামুল হকের মরদেহ উদ্ধার করে সমাহিত করেন কাশীপুরেই।
এনামুল হক গাজী চাকরি করতেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে। কর্মরত ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানে। ১৯৭১-এ ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধে যোগ দেন। ৮ নম্বর সেক্টরের বয়রা সাবসেক্টরে যুদ্ধ করেন। বিভিন্ন স্থানের যুদ্ধে তিনি বীরত্বের পরিচয় দেন।
সূত্র: একাত্তরের বীরযোদ্ধা: খেতাব পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা, দ্বিতীয় খণ্ড, প্রথমা প্রকাশন, ঢাকা ২০১৩
সম্পাদক: মতিউর রহমান, সংগ্রহ ও গ্রন্থনা: রাশেদুর রহমান
Also Read
-
পোশাক কারখানাসহ রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা খুলছে রোববার
-
করোনায় ২১২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১৩ হাজারের বেশি
-
চার্লসের রান্না এখন সুগন্ধ ছড়ায় না, খাবারের দুশ্চিন্তায় কাটে বেলা
-
বিজয়ীর তালিকায় দেশীয় দুই প্রতিষ্ঠান
-
টেনিসের ছেলেদের দ্বৈতের সোনা ক্রোয়েশিয়ার